ঢাকা ২৯ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
সোনারগাঁয়ে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে ৭ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার দেশে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে ৬ লাখ মানুষ: বিশ্বব্যাংক অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ ইউনিট, তথ্য দিলে পুরস্কার ২ লাখ টাকা বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে আগুন দেশের বাজারে আবারও সোনার দামে বড় পতন ‘চাপের মুখে’ বন্যায় উদ্ধার অভিযানে বিদেশি সহায়তা নিতে রাজি হলো নেপাল ঘুষকাণ্ডে ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্টের কারাদণ্ড বন্যায় ভেসে আসা মরদেহ শনাক্তে হিমশিম খাচ্ছে নেপাল

বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

#

নিজস্ব প্রতিনিধি

১৪ জুলাই, ২০২৬,  5:10 PM

news image

টানা প্রায় এক সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের পর বান্দরবানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। তবে জনজীবনে স্বস্তি ফিরলেও বাড়িতে ফিরে অনেকেই পেয়েছেন কেবল কাদামাটি আর ধ্বংসস্তূপ। টানা কয়েক দিন পানির নিচে থাকায় বসতঘর, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, খাদ্যসামগ্রী ও গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি পরিষ্কার করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে। অন্যদিকে কয়েক দিন কর্মহীন থাকায় দিনমজুর, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নিম্নআয়ের মানুষের সামনে দেখা দিয়েছে চরম অর্থসংকট। ঘরবাড়ি মেরামতের পাশাপাশি সংসার চালানোর চাপ তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানি কমতে শুরু করায় স্বস্তি ফিরেছে। তবে অনেক ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সংস্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে জেলার লামা-আলীকদম অভ্যন্তরীণ সড়কে যোগাযোগও সচল হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে জেলার রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি এবং থানচি-আলীকদম ও লামা-সুয়ালক সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় পাহাড় ধসে সড়কের ওপর মাটি জমে থাকায় অভ্যন্তরীণ যানবাহন চলাচল এখনো ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড় ধসে বেশ কিছু বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নতুন করে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার সাতটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় বন্যার কারণে প্রায় ১২ হাজার ৫০০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এ দুর্যোগে পাহাড়ধস ও পানিতে ভেসে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে সর্বোচ্চ সময়ে ৬ হাজার ২৫০ জন আশ্রয় নিয়েছিলেন। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (অ. দা.) বুলবুল আকতার সেতু জানিয়েছেন, গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণ এবং এর ফলে সৃষ্ট বন্যায় বান্দরবানে এখন পর্যন্ত মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাহাড়ধসের ঘটনায় পাঁচজন এবং পানিতে ডুবে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও জানান, বন্যা পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটা স্বাভাবিক হলেও পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তাই পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের সব ধরনের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে চাল, শুকনো খাবার, নগদ অর্থ, বিশুদ্ধ পানি, ঢেউটিনসহ বিভিন্ন ধরনের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এদিকে, বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ইতোমধ্যে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও বান্দরবান জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস। তিনি জানান, বরাদ্দকৃত অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা ও জরুরি মানবিক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম