ঢাকা ৩০ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
সোনারগাঁয়ে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে ৭ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার দেশে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে ৬ লাখ মানুষ: বিশ্বব্যাংক অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ ইউনিট, তথ্য দিলে পুরস্কার ২ লাখ টাকা বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে আগুন দেশের বাজারে আবারও সোনার দামে বড় পতন ‘চাপের মুখে’ বন্যায় উদ্ধার অভিযানে বিদেশি সহায়তা নিতে রাজি হলো নেপাল ঘুষকাণ্ডে ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্টের কারাদণ্ড বন্যায় ভেসে আসা মরদেহ শনাক্তে হিমশিম খাচ্ছে নেপাল

চার নদ-নদীতে তীব্র ভাঙন, বন্যা নিয়ে দুঃসংবাদ

#

নিজস্ব প্রতিনিধি

০৪ জুলাই, ২০২৬,  7:16 PM

news image

উজানের ঢল এবং নদ-নদীর পানি ওঠানামার প্রভাবে কুড়িগ্রামের ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও দুধকুমার নদের তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেড় শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। আরও হাজরো পরিবার শেষ সম্বল বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

এদিকে আবারও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে নদ তীরবর্তী এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র । ফলে নদ তীরবর্তী মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, জেলার ৪০টি ভাঙনকবলিত পয়েন্টের মধ্যে ৩০টিতে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে নদীভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে।

শনিবার (৪ জুলাই) পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, জেলার দুধকুমার, ধরলা নদীর পানি কমছে। অপরিদিকে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়ছে । তবে সব নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ৪ থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি অথবা বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির পাশাপাশি নদীভাঙনের তীব্রতাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বর্তমানে কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী, ভূরুঙ্গামারী, উলিপুর, চিলমারী ও রাজারহাটসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ৪০টি পয়েন্টে ধরলা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আশ্রয়কেন্দ্র, আবাদি জমি, বসতবাড়ি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

স্থানীয়রা জানান, নদীভাঙন তাদের জীবনের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। অনেক পরিবার পাঁচ থেকে দশবার পর্যন্ত বসতভিটা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। এবার ভিটেমাটি হারালে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও থাকবে না। তাই স্থায়ী নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা লেবু মিয়া বলেন, গত তিন-চার বছর ধরে দুধকুমারের ভাঙনে এ এলাকার অসংখ্য মানুষ ভিটেমাটি হারিয়েছে। এখনো পুরো একটি গ্রাম হুমকির মুখে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গ্রামের পাশাপাশি স্কুল, হাট ও বিজিবি ক্যাম্পও ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়বে।

একই এলাকার শাহিনা বেগম বলেন, নদী ভাঙতে ভাঙতে বাড়ির একেবারে কাছে চলে এসেছে। এখন ঘর সরিয়ে নিচ্ছি। কিন্তু এরপর কোথায় যাব জানি না। আর জায়গা-জমিও নেই।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ১৬টি নদ-নদীর মধ্যে পাঁচটি প্রধান নদীর দুই তীর মিলিয়ে প্রায় ৩৭৪ কিলোমিটার এলাকা ভাঙনপ্রবণ। এর মধ্যে মাত্র ৬৬ কিলোমিটার নদীতীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ নদীভাঙনের ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়ে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, নদ-নদীর পানি বাড়ার কারণে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গুরুত্ব বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম