ঢাকা ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
‘আ. লীগের ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন নেই’ বললেন নতুন মামলায় গ্রেপ্তার ফিরোজ অস্ট্রেলিয়ায় ডেপুটি মেয়র হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এলিজা রহমান অনুশীলনকালে দুর্ঘটনায় ২ সেনাসদস্য নিহত, ১ কর্মকর্তা আহত সাবেক এমপি মনোয়ার হোসেন চৌধুরী মারা গেছেন বিআরটিএর অনুমতি ছাড়া স্লিপার বাস চালানো যাবে না: হাইকোর্ট বাঁধনের ওপর হামলা ঘৃণ্য অপরাধ: রিজভী ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে, সেপ্টেম্বরের শেষে প্রকোপ সর্বোচ্চ হতে পারে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী পলিথিন-প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের একগুচ্ছ কর্মসূচি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাপের কামড়ে যুবকের মৃত্যু

‘আ. লীগের ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন নেই’ বললেন নতুন মামলায় গ্রেপ্তার ফিরোজ

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,  4:00 PM

news image

জুলাই আন্দোলনে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে শিক্ষার্থী নাইম হাওলাদার হত্যা মামলায় এবং তারেক চৌকিদার হত্যাচেষ্টা মামলায় পটুয়াখালী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন। 


নাইম হত্যা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই নাজিম উদ্দিন ফকির গত ৩ সেপ্টেম্বর এবং তারেক চৌকিদার হত্যাচেষ্টা মামলায় যাত্রাবাড়ী থানার এসআই রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া একই দিন তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। এদিন শুনানিকালে তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। 


গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের শুনানির জন্য কারাগার থেকে আদালতে নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের উদ্দেশে আ স ম ফিরোজ বলেন, এক মামলায় দুই বছরের সাজা খাটার পর জামিন হয়েছে। আবার শ্যোন অ্যারেস্ট দেখালো। 


আওয়ামী লীগ জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফিরোজ বলেন, ‘ক্ষমা আমি চাইলে তো হবে না। যে ক্ষমা চাওয়ার যোগ্য, সে ক্ষমা চাইবে যদি প্রয়োজন মনে করে। আমি মনে করি না যে, এই মুহুর্তে আওয়ামী লীগের ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন আছে।’


এদিকে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। আ স ম ফিরোজের পক্ষে অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন বিশ্বাস ও শফিকুল ইসলাম স্বপন গ্রেপ্তার না দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন।


এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে ফিরোজ বলেন, ‘আমার বয়স ৭৮ বছর। দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছি। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। ৮ বারের সংসদ সদস্য। আমি কোনো অন্যায়-অবিচার করিনি। কোনো অপরাধ করিনি। আমি অসুস্থ, আমাকে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এক মামলায় জামিন পেলে, নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। এরপর আদালত তাকে দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।’


নাইম হত্যা মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার উত্তর কুতুবখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান করছিলেন নাইম হাওলাদার। এ সময় বাম কাঁধের সামনের দিকে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। পরে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়।


তারেককে হত্যাচেষ্টা মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকায় তারেক তৌকিদারের রুমমেট শিহাব ছাদে গুলিবিদ্ধ হন। তখন তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তারেক নিজেও গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় তিনি ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন।


২০২৪ সালের ২৩ অগাস্ট রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। 


ফিরোজের আরেক আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন বলেন, চার মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিনের পর যখন কারামুক্ত হবেন, তখনই তাকে এ দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম