ঢাকা ৩০ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
সোনারগাঁয়ে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে ৭ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার দেশে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে ৬ লাখ মানুষ: বিশ্বব্যাংক অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ ইউনিট, তথ্য দিলে পুরস্কার ২ লাখ টাকা বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে আগুন দেশের বাজারে আবারও সোনার দামে বড় পতন ‘চাপের মুখে’ বন্যায় উদ্ধার অভিযানে বিদেশি সহায়তা নিতে রাজি হলো নেপাল ঘুষকাণ্ডে ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্টের কারাদণ্ড বন্যায় ভেসে আসা মরদেহ শনাক্তে হিমশিম খাচ্ছে নেপাল

হরমুজে অচলাবস্থা: ওমানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, একক নিয়ন্ত্রণ চায় ইরান

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৯ জুলাই, ২০২৬,  4:57 PM

news image

কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এই রুটে জাহাজ চলাচলে ওমানের দেওয়া সমান ভাগাভাগির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। উল্টো পুরো প্রণালিতে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার কড়া শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান।

ওমান হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ ও বাধ্যতামূলক টোল আরোপ ঠেকাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থনে একটি যৌথ আঞ্চলিক কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছিল। গত শনিবার পরিকল্পনাটি তেহরানের কাছে পাঠানো হয়।

মূলত ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগর সংযোগকারী মালাক্কা প্রণালির (ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের যৌথ পরিচালনা) আদলে এটি তৈরি করা হয়। প্রস্তাব ছিল, জাহাজগুলোর কাছ থেকে স্বেচ্ছায় টোল আদায় করে তা নিরাপদ নৌ চলাচল, পরিবেশ সুরক্ষা এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে ব্যয় করা হবে।

কিন্তু মঙ্গলবার ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাওয়াদি জানান, ওমানের প্রস্তাবটি তাদের নিরাপত্তা উদ্বেগ মেটাতে পুরোপুরি ব্যর্থ। এর বদলে তেহরান চায়, একটি শিপিং লেন পুরোপুরি এবং দ্বিতীয়টির একাংশ সরাসরি ইরানের জলসীমা দিয়ে যাবে; যাতে আসা-যাওয়া করা সব জাহাজের ওপর তারা নিবিড় নজরদারি করতে পারে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে মাইন আতঙ্কে আন্তর্জাতিক ‘ট্রাফিক সেপারেশন স্কিম’ রুটটি অচল রয়েছে। গারিবাওয়াদি জানান, তারা রুটটিকে আর স্বীকৃতি দেন না এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তৃতীয় কোনো দেশকে সেখানে মাইন অপসারণ করতেও দেওয়া হবে না।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি-বাণিজ্যের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরান পথটি অবরুদ্ধ করে দেয়। গত মাসে দুপক্ষের সমঝোতায় এটি আংশিক চালু হলেও, ইরানি হামলার অজুহাতে চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালালে চুক্তিটি ভেস্তে যায়। টানা ১৩ দিন মার্কিন হামলার পর শুক্রবার থেকে তা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

এমন উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার ওমান ও সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি মার্কিন আগ্রাসনে সৃষ্ট নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী গারিবাওয়াদি জানান, যুক্তরাষ্ট্রই ওমানের মাধ্যমে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে এবং সামরিক হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানিয়েছেন, আলোচনা ভালো এগোচ্ছে। তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা এড়াতে চান। তবে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে  ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেওয়া হবে না।

এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেই সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের ‘ইস্পাতকঠিন অবরোধ’ চলছে। ২৮ জুলাইয়ের পর থেকে তারা ১৮টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ বদলে দিয়েছে এবং চারটি আটক বা বিকল করেছে।

কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ মনে করেন, ওমানের প্রস্তাবটি গৃহীত হলে অবরুদ্ধ ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ কমত। প্রণালিটি বন্ধ থাকায় সাধারণ ইরানিরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তাই তারা চান এটি দ্রুত চালু হোক। কিন্তু ইরানের সরকারে থাকা কট্টরপন্থীদের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অনড় অবস্থানের কারণেই শান্তির এই ইতিবাচক উদ্যোগটি শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেল।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম