ঢাকা ৩০ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
সোনারগাঁয়ে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে ৭ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার দেশে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে ৬ লাখ মানুষ: বিশ্বব্যাংক অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ ইউনিট, তথ্য দিলে পুরস্কার ২ লাখ টাকা বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে আগুন দেশের বাজারে আবারও সোনার দামে বড় পতন ‘চাপের মুখে’ বন্যায় উদ্ধার অভিযানে বিদেশি সহায়তা নিতে রাজি হলো নেপাল ঘুষকাণ্ডে ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্টের কারাদণ্ড বন্যায় ভেসে আসা মরদেহ শনাক্তে হিমশিম খাচ্ছে নেপাল

দুই কোটি হালালে তৎপর ডিডি, চেয়ারম্যান রহস্যজনক নিরবতায়

#

১৬ আগস্ট, ২০২৬,  10:57 PM

news image

  • আখেরি ধান্ধায় এডি সিদ্দিক-আউয়াল।

  • টাকার ভাগ নিয়েছে-গোটা প্রশাসনসহ অপারেশন শাখার কর্তারাও।”


কামরুজ্জামান মিল্টন : বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)’র দুই কোটি টাকার মালামাল (জিনিসপত্র) অবৈধভাবে বিক্রি করে ভাগাভাগি কান্ডের গোমর ফাঁশে চলছে-ধামাচাপা দেয়ার নানা তৎপরতা। এর মূল হোঁতা সহকারি পরিচালক (প্রশাসন) সিদ্দিককের রক্ষক হয়ে মোটা ভাগের চাপে রীতিমত এখন অফিস বেপরোয়া আচরন করছেন-উপ পরিচালক (ডিডি এডমিন,প্রশাসন) সামিউল মাসুদ। কর্মচারী-কর্মকর্তাদের সাথে অশালিন ব্যবহার করেই যাচ্ছেন। আর দুই বড় ভাগিদার খোদ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ও পরিচালক (প্রশাসন) নাজনীন হোসেন রয়েছেন-রহস্যজনক নিরবতায়। গত জুলাই মাসে বিআরটিএ’র প্রশাসন শাখার এক সহকারি পরিচালকের বিরুদ্ধে প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ ওঠে। আর তা নিয়ে গুঞ্জন-কানাঘুষার জেরে বেরও হয় দু-এক টুকরো খবর। আর তাতেই নড়ে উঠে কর্তৃপক্ষ (প্রশাসন)। গুঞ্জন-কানাঘুষা থামানোর হুমকি-ধমকিতে ঘটে উল্টোটা। সংশ্লিষ্টদের মাঝে তা আরো বগেবান হয়।

এ নিয়ে আরো খোঁজখবরে যেন মেলে“কেচোঁ খুঁড়তে,সাপের উকিঝুকি”। মানে- ৫ জুলাই ক্ষতিগ্রস্থ বিআরটিএ ভবনের বিপুল পরিমান মালামাল বিক্রি হয় গোপনে। অথচ মেরামত আনুষ্ঠানিক দরপত্রে মোটা খরচে শেষের পথে। আর ওই মালামাল অবৈধভাবে বিক্রিতে এডি এডমিন সিদ্দিক সরাসরি জড়িত হলেও তাতে ছিল-খোদ চেয়ারম্যানসহ প্রশাসনের প্রায় সকলেরই সম্মতি। টাকার ভাগটাও প্রশাসনের উপর থেকে নীচ পর্যন্ত,পদমর্যদার ভিত্তিতেই হয়েছে। বাদ পড়েনি পরিচালক অপারেশন মোমতাজ বেগমসহ সহাকারি পরিচালক (সাধারন) আব্দুল আউয়ালও। চাকরির মেয়াদ আর এক-আধ বছরে দাড়ানো ওই এডি সিদ্দিক ও আউয়াল যোগসাজসে আখেরি খাওয়ার লোভে ওই মালমালগুলো অবৈধভাবে বিক্রি করে ভাগাভাগি করেন। 

তাই এ নিয়ে সমালাচনার তোপে সবাই যেন বাকহীন। ওই সময়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগে অকেজো বিআরটিএ’র প্রায় দুই কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের মালামাল ভাঙ্গাড়ি ও বর্জ্য নামে অবৈধভাবে হয়-বিক্রি। আর শুরুর দিকে এ নিয়ে নানা গুঞ্জনে ভাব বেগতিক বুঝে দায় এড়াতে দশ দিন পর তৈরী করা হয়-কিছু কাগজপত্র ও কোষাগারে টাকা জমার বয়ান। এসব মালামাল কোন নিয়ম-নীতির (দরপত্র ছাড়াই) তোয়াক্কা ছাড়াই অপসরনের নামে বিক্রি করে দেয়া হয়। আর এ কাজটি করেন-ওই হেড অফিসেরই সহকারী পরিচালক,প্রশাসন (এডি এডমিন) সিদ্দিকুর রহমানের নির্দেশে,তারই সিন্ডিকেটের লোকজন। গত ১লা জুলাই থেকে ৪ই জুলাই পর্যন্ত একটানা প্রায় চার দিন ধরে এডি এডমিনের বিশ্বস্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী জন দাশ ওরফে জনি দাশ ওই অফিসের পার্কিংয়ের তিনটি তলায় রাখা ওই সব মালামাল ট্রাক বোঝাই করে পাচার করতে থাকে। এতে নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দিলেও সিদ্দিকের চাপে ছাড়তে বাধ্য হয়। বনে যায়-কানাঘুষার নির্বাক দর্শক। এরপর খোঁজখবর নিয়ে খন্ডাকারে প্রকাশিত হয়-একাধিক প্রতিবেদন ।

আর এতে প্রশাসন সবার চোখে ধুলা দিয়ে বিষয়টি থামানোর চেস্টা করে। কিন্তু ঘটে তার উল্টোটা। মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে-এ ঘটনায় সিদ্দিক ফাঁশলে ওই ডিডি এডমিনসহ আরো অনেকে ফাঁশার আশঙ্কায় ডিডি এডমিন তা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। দুই কোটির বেশী দাম হওয়া মালামাল এডি এডমিন বিনা দরপত্রে সিসিটিভি বন্ধ রেখে বেচে দেয়। এরপর এ নিয়ে নানা গুঞ্জনের জেরে ও তোপের মুখে ধুরন্ধর এডি এডমিন সিদ্দিক রাজিখুশি করে (মোটা টাকা দিয়ে) তা সামলানোর দায়িত্ব ডিডি এডমিন মাসুদের উপর চাপায়। আর ডিডি মাসুদের তা ধামাচাপার নানা অপষ্টোয় পুরো বিষয়টি গুলিয়ে যায়। বাড়ে ওই গুঞ্জন’র মাত্রা। ছড়ায়-চেয়ারম্যান,পরিচালক,উপ পরিচালক (প্রশাসন)সহ অনেকে মধ্যে পদমর্যাদার ভিত্তিতে ওই দুই কোটি টাকা ভাগাভাগির এ বেখবর। তবে ভাগাভাগির হারটা সমেত সবার সাধুর বেশের আড়ালের নমুনাটা এর পরের খন্ডের অপেক্ষায়।

এ খন্ডে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবারই মুখ খোলার নারাজীর মধ্যে মালামালের দায়িত্বে থাকা ঘাপটি মেরে থাকা আউয়াল নামের জনৈক এডির (সাধারন)। তিনি ভবন মেরামত দেখভালে থাকলেও মালমাল বিক্রির দায় দেন পরিচালক (অপারেশন) মোমতাজ বেগমের উপর। বাবাররের মতই প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের খোদ চেয়ারম্যান,পরিচালক ও উপ পরিচালকসহ কেউই ফোন তো ধরেন নি। হোয়াটস-অ্যাপে মেসেজ দিয়েও মেলেনি-কোন সাড়া। আর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)’র পক্ষ থেকে ওই একই কথা। এসব তদন্তে প্রমানিত হলে সংশ্লিস্ট কেউই ছাড় পাওয়ার কোন সুযোগ নাই। তবে ফের সংশ্লিস্ট মন্ত্রনালয়েও বিষয়টি জানানো হলে মেলে-বিষয়টি আমলে নেয়ার আশ্বাস।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম