ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মুল সড়কের একাংশ উদ্বোধন
নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 12:50 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 12:50 PM
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মুল সড়কের একাংশ উদ্বোধন
ওবায়দুর রহমান লিটনঃ ঢাকা টাংগাইলে মহাসড়কের চিরতরে শেষ হতে চলেছে ঢাকার প্রবেশমুখের তীব্র যানজট। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দূরপাল্লার বাস আর ঢুকবে না ঢাকা ও আশুলিয়ার ভেতরের ব্যস্ত রাস্তায়। আজ শুরু হলো বহুল প্রতীক্ষিত যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো দেশের দীর্ঘতম উড়াল সড়ক ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল সড়ক ও সার্ভিস লেনের একাংশ।
ফিতা কেটে উদ্বোধন করলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতি মন্ত্রী মোঃ রাজিব আহসান এমপি, সিএমসির প্রেসিডেন্ট মি. কি ইউ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব-মোহাম্মদ আব্দুর রউফ ও প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।
ঢাকার উত্তরা, আবদুল্লাহপুর, বিমানবন্দর, বাইপাইল ও আশুলিয়া এলাকার যানজট নিরসনে এটি এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। মূল এক্সপ্রেসওয়েতে টোল প্রযোজ্য থাকলেও, তুরাগ নদীর ওপর নির্মিত সার্ভিস লেন সেতুটি ব্যবহার করে স্থানীয় ও সাধারণ যানবাহন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নদী পার হতে পারবে। সাভার-আশুলিয়া করিডোরের ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে আগে যেখানে ১-২ ঘণ্টা লাগত, এখন তা পার হওয়া যাবে মাত্র ১০-১২ মিনিটে।
৪৪ কিলোমিটারের সিগন্যালমুক্ত ম্যাজিক এই এক্সপ্রেসওয়েটি যখন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সাথে পুরোপুরি যুক্ত হবে, তখন সাভারের ঢাকা ইপিজেড থেকে শুরু করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত ৪৪ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দেওয়া যাবে সম্পূর্ণ সিগন্যাল ছাড়াই।
এর ফলে ঢাকার সড়কে ৩০-৪০% ট্রাফিক চাপ কমে যাবে এবং উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের ৩০টিরও বেশি জেলার বাস-ট্রাক ঢাকার ভেতরের রাস্তা এড়িয়ে সরাসরি এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।
সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় বাইপাইলে নির্মিত হচ্ছে একটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক তিন তলা ইন্টারচেঞ্জ। তুরাগ নদের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে আশুলিয়া বাজার থেকে উত্তরার ধউর থানার বেড়িবাঁধ পর্যন্ত পুরোনো সড়কটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে কোনো টোল ছাড়াই সার্ভিস লেন দিয়ে অনায়াসে তুরাগ নদ পার হওয়া যাবে।
প্রকল্পের অগ্রগতি ও ব্যয়ে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশদ্বার আশুলিয়ায় যাতায়াত সহজ করতে ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। নানা জটিলতায় কাজ কিছুটা ধীরগতিতে চললেও বর্তমানে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম (যুগ্ন সচিব)জানান, আজ থেকে মুলক সড়ক ও সার্ভিস লাইনের কিছু অংশে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলো এবং পরবর্তীতে কাজ পুরোপুরি শেষ হলে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক ভাবে এর উদ্বোধন করবেন।
তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় সংশোধনীতে প্রায় ৫৪.১ শতাংশ বেড়ে প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৪৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে পুরো প্রকল্পের চূড়ান্ত সুফল পেতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলেও, আজ মুল সড়কের একাংশসহ সার্ভিস লেন চালুর মাধ্যমেই এ অঞ্চলের মানুষ প্রথম ধাপে বড় স্বস্তি পেতে যাচ্ছে।
এদিকে সাভার, নবীনগর ও আরিচাঘাট দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ মানুষের দাবি, এক্সপ্রেসওয়ের সুফল পুরোপুরি পেতে বাইপাইল মোড় থেকে নবীনগর সড়কের সংযোগস্থলে ওঠানামার জন্য একই সাথে একটি বিকল্প র্যাম্প বা রাস্তা দ্রুত নির্মাণ করা হোক।