ঢাকা ৩০ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
সোনারগাঁয়ে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে ৭ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার দেশে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে ৬ লাখ মানুষ: বিশ্বব্যাংক অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ ইউনিট, তথ্য দিলে পুরস্কার ২ লাখ টাকা বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে আগুন দেশের বাজারে আবারও সোনার দামে বড় পতন ‘চাপের মুখে’ বন্যায় উদ্ধার অভিযানে বিদেশি সহায়তা নিতে রাজি হলো নেপাল ঘুষকাণ্ডে ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্টের কারাদণ্ড বন্যায় ভেসে আসা মরদেহ শনাক্তে হিমশিম খাচ্ছে নেপাল

আফগানিস্তানে ৯ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতিপত্র স্থগিত

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১০ আগস্ট, ২০২৬,  5:03 PM

news image

ভুয়া শিক্ষার্থী দেখানো, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং শিক্ষাবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আফগানিস্তানের ৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনার অনুমতিপত্র স্থগিত বা বাতিল করেছে তালেবান সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসছিল।


আফগানিস্তানভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম খামা প্রেসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তালেবান সরকারের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় রবিবার এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, ৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭টির অনুমতিপত্র এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। আর দুটি প্রতিষ্ঠানের অনুমতিপত্র স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে।


১৪০৫ সৌর বছরের বসন্তকালীন সেমিস্টারে এসব প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন ও মূল্যায়ন চালানোর পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক বছরের জন্য অনুমতিপত্র স্থগিত করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে জওজজান প্রদেশের বারলাস বিশ্ববিদ্যালয়, বালখ প্রদেশের রাহে সাদাত বিশ্ববিদ্যালয় ও তুর্কিস্তান বিশ্ববিদ্যালয়।


এ ছাড়া বাদাখশান প্রদেশের আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ও বারনা বিশ্ববিদ্যালয়, ফারিয়াব প্রদেশের রাশাদ বিশ্ববিদ্যালয় এবং কাবুলের পায়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতিপত্রও এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। অন্যদিকে কুন্দুজের কোহানদুজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং তাখার প্রদেশের খানা-এ দানিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতিপত্র স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে।


খামা প্রেসকে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। পরিদর্শনের সময় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠান বাস্তবে না থাকা বা নিয়মিত উপস্থিত না হওয়া শিক্ষার্থীদের ‘ভুয়া শিক্ষার্থী’ হিসেবে দেখিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির রেকর্ডও সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। এ ছাড়া কিছু প্রতিষ্ঠানে নিষিদ্ধ বা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার যোগ্য নয়—এমন শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।


মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাঠামো ও শিক্ষাসংক্রান্ত ব্যবস্থাপনাও যথেষ্ট ছিল না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সমস্যা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। কিছু প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগার সরঞ্জাম পর্যাপ্ত ছিল না। ফলে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ ছাড়া মন্ত্রণালয় অনুমোদিত পাঠ্যক্রমও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ঠিকভাবে পড়ানো হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগও প্রয়োজনের তুলনায় কম ছিল।


কিছু প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাসের সময়সূচি থাকলেও বাস্তবে তা অনুসরণ করা হচ্ছিল না বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। খামা প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিদর্শনের সময় কিছু প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ খালি পাওয়া যায়। অর্থাৎ কাগজে-কলমে ক্লাসের সময়সূচি থাকলেও নির্ধারিত সময়ে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী বা শিক্ষক পাওয়া যায়নি। এসব অনিয়মের ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়।


২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেওয়ার পর দেশটির উচ্চশিক্ষা খাত নানা সমস্যার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে নারী ও মেয়েদের শিক্ষার ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তালেবান সরকার মেয়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা খাতে আরো বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এতে আফগানিস্তানের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে কমে গেছে।


এর মধ্যে নয়টি বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন করে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিল দেশটির উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ভুয়া শিক্ষার্থী দেখানো, উপস্থিতির তথ্য ঠিক না রাখা, পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাসুবিধার ঘাটতি। সূত্র: এএনআই

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম