ঢাকা ৩১ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
নবম পে স্কেল: ৩০ শতাংশ দিয়ে শুরু, বেতন বাড়বে ৪ ধাপে আপাতত একনেকে উঠছে না মেট্রোরেলের দুই প্রকল্প নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে লাখ টাকায় সন্তান বিক্রি করে আইফোন কেনা সেই বাবা আটক তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিতে ৬ হাজার কোটি টাকা দিল সরকার সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেল চুক্তি: রদ্রিগেজ শাহজালালে ৬২৫ কার্টন সিগারেটসহ ২৮ লাখ টাকার মালামাল জব্দ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদের আপিল চলবে কিনা, আদেশ ৭ সেপ্টেম্বর লেক অন্টারিও এখন ‘লেক আমেরিকা’, ট্রাম্পের নাম বদলের সিদ্ধান্তে সাড়া গুগলের আন্তর্জাতিক টেনিস হল অব ফেমে ফেদেরার

আপাতত একনেকে উঠছে না মেট্রোরেলের দুই প্রকল্প

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩১ আগস্ট, ২০২৬,  12:05 PM

news image

রাজধানীর দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় কমানোর পরামর্শ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-১ প্রকল্প থেকে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ও এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্প থেকে ৮০০ কোটি টাকা কমানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্প দুটির ব্যয় আরও যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি বিভিন্ন খাত পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর বিষয়ে কাজ করবে। রোববার প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিকল্পনা কমিশনের এ সিদ্ধান্তের ফলে সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব দুটি অনুমোদন না দিয়ে ব্যয় কমানোর জন্য ফেরত দেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আপাতত প্রকল্প দুটি  জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উঠছে না। সাধারণত, বাস্তবায়নকারী সংস্থার পক্ষ থেকে প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পাওয়ার পর যাচাই শেষে বাস্তবায়নযোগ্য মনে করলে একনেকে উপস্থাপন ও অনুমোদনের সুপারিশ করে থাকে কমিশন। 


সম্প্রতি দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল বিমানবন্দরের সঙ্গে কমলাপুরকে সংযুক্ত করার এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় ১২৯ দশমিক ৮২ শতাংশ বাড়িয়ে এক লাখ ২০ হাজার ৭৯৪  কোটি টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। ২০১৯ সালের একনেক সভায় মেট্রো-১ প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৫২ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। নির্মাণকাল  ছিল ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। বিমানবন্দর থেকে  কমলাপুর পর্যন্ত একটি রুট ও অন্য রুটটি নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল ও পিতলগঞ্জ ডিপো পর্যন্ত। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও গত জুলাই পর্যন্ত সাত বছরে প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। ব্যয় হয়েছে তিন হাজার ৯০৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।



এদিকে হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত রুট নিয়ে এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পটির ব্যয় ১২৬ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে ডিএমটিসিএলের পক্ষ থেকে। প্রস্তাবে নতুন করে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে ৯৩ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে একনেকে অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। নতুন করে ব্যয় বাড়ছে ৫১ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা। নতুন প্রস্তাবে নির্মাণকাল ছয় বছর বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। অনুমোদিত সময়সীমা ছিল ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই প্রকল্পটিরও কারিগরি ও ঋণসহায়তা দিচ্ছে জাইকা। নতুন প্রস্তাবে জাইকার ঋণ বাড়বে ১৩৭ শতাংশ। অতিরিক্ত অর্থ ৩৯ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা। জাইকার মোট ঋণ দাঁড়াবে ৬৮ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা। অনুমোদিত ঋণ ছিল ২৯ হাজার কোটি টাকা। সরকারের ব্যয় জোগানোর অংশ বাড়বে দ্বিগুণ। মোট জোগানের পরিমাণ দাঁড়াবে ২৪ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা। অনুমোদনের সময় এর পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ১২১ কোটি টাকা। 


ব্যয় বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, টেন্ডার বা দরপত্র প্রক্রিয়ায় ঠিকাদারদের প্রাক্কলিত খরচের চেয়ে অনেক বেশি দর দাবিই প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির মূল কারণ। এ ছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণেও খরচ বেড়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই পরিচালনা করেছিল জাইকা। সেই সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করেই মূল ডিপিপিতে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়। পরে জাপানি পরামর্শকরা প্রাক্কলন সংশোধন করে বিভিন্ন অংশের খরচ বাড়িয়ে দেন, যার ধারাবাহিকতায় জাপানি ঠিকাদাররাও ব্যয় বাড়াতে চান। 



পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এত বেশি ব্যয় প্রস্তাবের বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করা হয় পিইসির সভায়। ডিএমটিসিএল ব্যয় বৃদ্ধির যেসব কারণ দেখিয়েছে, তা যথেষ্ট যৌক্তিক নয়।  ব্যয়ের বিভিন্ন খাতে অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মেট্রোরেল প্রকল্পে ঠিকাদার নিয়োগে প্রতিযোগিতা কম থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। জাইকার বিভিন্ন শর্তের কারণে দরপত্রে মূলত জাপানি প্রতিষ্ঠান বা তাদের যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এতে প্রতিযোগিতা কমেছে এবং ঠিকাদারদের দর কমানোর সুযোগও সীমিত হয়েছে। বৈঠকে তাৎক্ষণিকভাবে দুই প্রকল্পের ব্যয় কমানো হয় ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। প্রকল্প দুটির ব্যয় আরও পর্যালোচনা ও যৌক্তিকীকরণের জন্য পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সড়ক পরিবহন উইংয়ের প্রধান অতিরিক্ত সচিব আলী রেজা সিদ্দিকীকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে প্রকল্পের বিভিন্ন ব্যয় খাত যাচাই করে প্রয়োজনীয় ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে বাস্তবসম্মত ব্যয় নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


ব্যয় কমানোর বিষয়ে পরামর্শ দিতে গত ২৪ মে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের সাবেক অধ্যাপক শামীম জেড বসুনিয়ার নেতৃত্বে সাত সদস্যের কারিগরি কমিটি করা হয়। জুলাইয়ে প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। তবে কমিটি মূল প্রকল্প প্রস্তাবের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি ব্যয়কে যৌক্তিক বলে মত দেয়। এরপরই ডিএমটিসিএল সংশোধিত ব্যয়ের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায়। সূত্র : সমকাল 

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম